Corporate & Business News Bangladesh
Corporate Bangladesh Corporate Bangladesh Corporate News Bangladesh Company News CEO Interview Business Leadership

ইউরোপ-এশিয়ার ‘সবুজ জ্বালানি করিডোর’ হতে যাচ্ছে তুরস্ক

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক। বিশেষ করে বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশটি এখন ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ “গ্রিন এনার্জি করিডোর” বা সবুজ জ্বালানি সংযোগপথ হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন গ্লোবাল উইন্ড এনার্জি কাউন্সিলের (GWEC) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা Ben Backwell।

আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তুরস্ক এখন শুধু নিজস্ব জ্বালানি বাজারই সম্প্রসারণ করছে না, বরং বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ইউরোপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বায়ু বিদ্যুৎ স্থাপন

বর্তমানে তুরস্কে বছরে প্রায় ২.১ গিগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ স্থাপন করা হচ্ছে, যা ইউরোপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

বেন ব্যাকওয়েল বলেন, চলতি বছর এটি বেড়ে প্রায় ২.৫ গিগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে তুরস্ক প্রতি বছর ৭ গিগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে তুরস্কের অবস্থান শক্তিশালী

GWEC প্রধান জানান, বর্তমানে তুরস্কের বায়ু বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিগুলো বিশ্বের ৪০ থেকে ৫০টি দেশে পণ্য রপ্তানি করছে।

তার মতে, ইউরোপে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি এবং এশিয়ায় দ্রুত সম্প্রসারণ—উভয় দিক থেকেই তুরস্ক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তুরস্ক ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সবুজ বিদ্যুৎ প্রবাহ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি “করিডোর” হিসেবে কাজ করতে পারে।

COP31 ঘিরে বাড়ছে আন্তর্জাতিক আগ্রহ

জলবায়ু কূটনীতিতেও তুরস্কের ভূমিকা বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন বেন ব্যাকওয়েল।

তিনি জানান, COP31 সম্মেলনকে সামনে রেখে তুর্কি কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে গ্লোবাল রিনিউএবলস অ্যালায়েন্স।

এই সম্মেলনে তুরস্কের নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরতে একটি “রিনিউএবল এনার্জি হাব” গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

‘জীবাশ্ম জ্বালানির যুগের সমাপ্তি’

বিশ্ব জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে বলেও মন্তব্য করেন GWEC প্রধান।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়টিকে ভবিষ্যতে “জীবাশ্ম জ্বালানির যুগের শেষ সময়” হিসেবে স্মরণ করা হবে।

তার মতে, বিভিন্ন দেশ এখন জীবাশ্ম জ্বালানির সঙ্গে জড়িত ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও মূল্য অস্থিরতা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির চ্যালেঞ্জ

তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অগ্রগতির পাশাপাশি কিছু বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিশেষ করে—

  • বিদ্যুৎ গ্রিড অবকাঠামো উন্নয়ন
  • বিনিয়োগ সঠিক খাতে প্রবাহিত করা
  • দ্রুত বিদ্যুতায়ন
  • শিল্পখাতের কার্বন নিঃসরণ কমানো

এসব বিষয় আগামী দিনের জ্বালানি রূপান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন বেন ব্যাকওয়েল।

বিশ্ব জ্বালানি খাতে নতুন বাস্তবতা

বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামো আরও সম্প্রসারণ করতে পারে, তাহলে দেশটি ভবিষ্যতে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে জ্বালানি সংযোগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্বজুড়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির চাহিদা বাড়তে থাকায় তুরস্কের এই অবস্থান বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি প্রতিবেদন

Leave A Reply

Your email address will not be published.