EMail: corporatenews100@gmail.com
মুদি দোকান-বিউটি পার্লারসহ ১৬ ব্যবসা খাতে ভ্যাট, নতুন পরিকল্পনা সরকারের
দেশের রাজস্ব আয় বাড়াতে এবং কর ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৬টি ব্যবসা খাতকে ভ্যাটের সুনির্দিষ্ট করের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে মুদি দোকান, বিউটি পার্লার, রেস্টুরেন্ট, মোবাইল ফোনের দোকান, ফার্নিচার ব্যবসা এবং বিভিন্ন খুচরা বিক্রয় খাত।
বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
যেসব ব্যবসা খাত ভ্যাটের আওতায় আসছে
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নিম্নোক্ত ১৬টি খাতকে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে—
- মুদি দোকান
- তৈরি পোশাক ও কাপড়ের দোকান
- কনফেকশনারি
- কসমেটিকসের দোকান
- প্লাস্টিক ও সিরামিক গৃহস্থালি পণ্যের বিক্রেতা
- জুতার দোকান
- হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা
- ডেকোরেটরস ব্যবসা
- মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রেতা
- এসি, ফ্রিজ ও ওভেন বিক্রেতা
- পেইন্ট, হার্ডওয়্যার ও স্যানিটারি-ফিটিংস ব্যবসা
- টাইলসের দোকান
- ঢেউটিনের দোকান
- রড ও সিমেন্ট ব্যবসা
- ফার্নিচার ব্যবসা
- বিউটি পার্লার, মিষ্টান্ন ভান্ডার ও রেস্টুরেন্ট
কেন এই উদ্যোগ?
সরকারের মতে, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আহরণের ভিত্তি সম্প্রসারণের জন্য নতুন ব্যবসা খাতগুলোকে ভ্যাট নেটওয়ার্কে আনা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে অনেক খুচরা ও সেবাভিত্তিক ব্যবসা কর ব্যবস্থার বাইরে থাকায় রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
গত অর্থবছরে কত ভ্যাট আদায় হয়েছে?
অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাবদ সরকারের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। এই আয় আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন খাতগুলোকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন ভ্যাট ব্যবস্থা কার্যকর হলে ব্যবসার হিসাব-নিকাশ আরও স্বচ্ছ হবে এবং সরকার রাজস্ব সংগ্রহে সুবিধা পাবে। তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ নিবন্ধন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে কর পরিশোধ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি।
বিশেষ করে মুদি দোকান, বিউটি পার্লার ও ছোট ব্যবসাগুলোর জন্য ভ্যাট ব্যবস্থার নিয়ম সহজ না হলে বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে।
ভোক্তাদের ওপর প্রভাব
নতুন ভ্যাট আরোপের ফলে কিছু ক্ষেত্রে পণ্য ও সেবার মূল্য সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে সরকার বলছে, কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও রাজস্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং সরকারি সেবার মান উন্নত হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে মুদি দোকান, বিউটি পার্লার, রেস্টুরেন্টসহ ১৬টি ব্যবসা খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা দেশের কর ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে এবং ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা এর সঙ্গে কত দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারেন।