EMail: corporatenews100@gmail.com
নতুন ব্যবসা শুরু করতে সময় লাগবে মাত্র ১৪ দিন, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশে নতুন ব্যবসা শুরু করতে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের লাইসেন্স, অনুমোদন ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয় উদ্যোক্তাদের। তবে এই পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে নতুন ব্যবসা চালু করতে যেখানে প্রায় ৩৫৫ দিন সময় লাগে, সেখানে ভবিষ্যতে এই সময়সীমা কমিয়ে মাত্র ১৪ দিনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে সরকার।
ব্যবসা শুরুতে সময় কমানোর উদ্যোগ
বুধবার (২৪ জুন) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, নতুন ব্যবসা শুরু করতে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, অনুমোদন এবং যন্ত্রপাতি আমদানির পুরো প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করার জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি কাজ করছে।
তার মতে, ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্রসহ বিভিন্ন সংস্থার লাইসেন্স দ্রুত প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে উদ্যোক্তারা অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার না হন।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ার পরিকল্পনা
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফেরাতে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, শিল্প ও ব্যবসা খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দূর করার লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
কৌশলগত পণ্য মজুদের পরিকল্পনা
বাজারে অস্থিরতা মোকাবিলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার জ্বালানি তেল, সয়াবিন তেলসহ আমদানিনির্ভর বিভিন্ন পণ্যের কৌশলগত রিজার্ভ গড়ে তুলবে বলেও জানান মন্ত্রী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের রিজার্ভ ব্যবস্থা বাজারে আকস্মিক সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অর্থনীতিতে এমএসএমই খাতের অবদান
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর অধিকাংশই ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এমএসএমই) খাতের অন্তর্ভুক্ত।
জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান প্রায় ৩৪ শতাংশ, যা দেশের কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
উদ্যোক্তাদের জন্য বড় প্রণোদনা
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আগামী বাজেটে এমএসএমই খাতের জন্য প্রায় ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বিভিন্ন সহায়তা ও প্রণোদনা কর্মসূচি প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা সিএমএসএমই খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে—
- ২ হাজার কোটি টাকা সহজ শর্তে স্বল্পসুদে ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হবে।
- স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা থাকবে।
- নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা তহবিল গঠন করা হয়েছে।
- সৃজনশীল অর্থনীতি (Creative Economy) খাতের জন্য ৩০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল রাখা হয়েছে।
উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ব্যবসা শুরু করতে সময় ৩৫৫ দিন থেকে ১৪ দিনে নামিয়ে আনার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে।
সফল বাস্তবায়ন হলে এটি বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ খাতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে।