EMail: corporatenews100@gmail.com
বাংলা কিউআর পেমেন্টে ১% এমডিআর: অতিরিক্ত টাকা কি গ্রাহক দেবেন, নাকি দোকানদার?
বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও একীভূত করার লক্ষ্যে বাংলা কিউআর (Bangla QR) ব্যবহারের পরিধি দ্রুত বাড়ছে। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআরের মাধ্যমে মার্চেন্ট পেমেন্টে ভ্যাটসহ ন্যূনতম ১% মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) নির্ধারণ করায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে—এই ১ শতাংশ ফি আসলে কে পরিশোধ করবে?
গ্রাহকের কাছ থেকে কি অতিরিক্ত টাকা কাটা হবে?
এর সরাসরি উত্তর হলো—না।
আপনি যদি বাংলা কিউআর স্ক্যান করে কোনো দোকানে পেমেন্ট করেন, তাহলে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে শুধুমাত্র আপনি যে পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করেছেন, ঠিক সেই পরিমাণই কাটা হবে। অর্থাৎ, অতিরিক্ত কোনো সার্ভিস চার্জ বা ফি গ্রাহকের ওপর আরোপ করা হবে না।
উদাহরণ হিসেবে, আপনি যদি ১,০০০ টাকার কেনাকাটা করেন, তাহলে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) অ্যাকাউন্ট থেকে কাটা হবে ঠিক ১,০০০ টাকাই।
তাহলে ১% এমডিআর কে দেবে?
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, এই চার্জটি মার্চেন্ট বা দোকানদারের প্রাপ্য অর্থ থেকে সমন্বয় করা হবে।
অর্থাৎ, ক্রেতার অর্থ গ্রহণের পর দোকানদারের হিসাবে টাকা জমা দেওয়ার আগে নির্ধারিত এমডিআর কেটে রাখা হবে। এই অর্থ সংশ্লিষ্ট অ্যাকোয়ারিং ব্যাংক বা পেমেন্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সেবা ফি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
একটি সহজ উদাহরণ
ধরা যাক—
- একজন ক্রেতা বাংলা কিউআর ব্যবহার করে ১,০০০ টাকার পণ্য কিনলেন।
- ক্রেতার অ্যাকাউন্ট থেকে কাটা হবে ১,০০০ টাকা।
- দোকানদারের হিসাবে জমা হবে প্রায় ৯৯০ টাকা।
- অবশিষ্ট প্রায় ১০ টাকা (ভ্যাটসহ ১% এমডিআর) সেবা ফি হিসেবে কেটে রাখা হবে।
অর্থাৎ, ক্রেতার কোনো অতিরিক্ত খরচ হবে না; ফিটি দোকানদারের পাওনা থেকেই সমন্বয় করা হবে।
দোকানদারদের জন্য কি কোনো ছাড়ের সুযোগ আছে?
হ্যাঁ, রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ডিজিটাল পেমেন্টকে আরও উৎসাহিত করতে অ্যাকোয়ারিং ব্যাংক বা পেমেন্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান চাইলে নিজেদের প্রচারণামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই এমডিআর আংশিক বা সম্পূর্ণ মওকুফ করতে পারে।
এর অর্থ হলো, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দোকানদারদেরও এই চার্জ বহন করতে নাও হতে পারে। এটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানের নীতির ওপর নির্ভর করবে।
গ্রাহকদের জন্য এর অর্থ কী?
সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি একটি ইতিবাচক বার্তা। কারণ বাংলা কিউআর ব্যবহার করে পেমেন্ট করলে অতিরিক্ত কোনো চার্জ দিতে হবে না। ফলে নগদ টাকার বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহার আরও সুবিধাজনক ও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদের জন্য এমডিআর একটি পরিচালন ব্যয় হলেও এর বিনিময়ে তারা দ্রুত, নিরাপদ এবং হিসাবযোগ্য ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি ব্যাংক বা পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানের বিশেষ অফার থাকলে এই ব্যয়ও কমে যেতে পারে।
বাংলা কিউআর পেমেন্টে নতুন ১% এমডিআর নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। গ্রাহক অতিরিক্ত কোনো অর্থ পরিশোধ করবেন না। নির্ধারিত ফি দোকানদারের প্রাপ্য অর্থ থেকে সমন্বয় করা হবে। তবে ভবিষ্যতে বিভিন্ন ব্যাংক বা পেমেন্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান চাইলে এই চার্জ আংশিক বা সম্পূর্ণ নিজেদের পক্ষ থেকেও বহন করতে পারে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে বাংলা কিউআর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। সঠিক তথ্য জানা থাকলে গ্রাহক ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এই আধুনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারবেন।
করপোরেটনিউজ২৪/জিএন, এসটি