EMail: corporatenews100@gmail.com
ওয়াশিংটন/আঙ্কারা: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে তেহরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনে কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “আমি জানি না, আমাদের কোনো চুক্তি হবে কি না। প্রয়োজনে আমরা কোনো চুক্তি ছাড়াই আমাদের লক্ষ্য অর্জন করব।”
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের নেতৃত্বের ওপর তার আস্থা নেই।
তিনি বলেন, “ইরানের সঙ্গে যদি কোনো চুক্তিও হয়, সেটি টিকবে কি না, তা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই। কারণ আমি তাদের খুবই অবিশ্বস্ত মানুষ হিসেবে দেখেছি।”
আবারও সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলারও হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, “প্রয়োজন হলে আমরা সেগুলো ধ্বংস করে দেব। আমি সেটা করতে চাই না, কিন্তু প্রয়োজন হলে করব।”
এ সময় তিনি ইরানের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ অবকাঠামোর কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ (Kharg Island) সম্পর্কেও মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, “প্রয়োজনে মার্কিন বাহিনী খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও নিতে পারে। তারা এটি ঠেকাতে পারবে না। তবে আমি বলেছি, তেলের পাইপলাইনে আঘাত না করে অন্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে।”
খার্গ দ্বীপ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
খার্গ দ্বীপ ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের টার্মিনালের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে যায়।
দ্বীপটি ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর উত্তর প্রান্তে অবস্থিত।
পাল্টাপাল্টি হামলায় বাড়ছে উত্তেজনা
ট্রাম্পের এ মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলার জবাবে মার্কিন বাহিনী রাতভর ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা বুধবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
সূত্র : খবর রয়টার্স