EMail: corporatenews100@gmail.com
কুয়ালালামপুর: রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এমএইচ৩৭০ (MH370)-এর সন্ধানে আবারও গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামুদ্রিক রোবোটিক্স প্রতিষ্ঠান ওশান ইনফিনিটি (Ocean Infinity)। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমান রহস্যগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত এই ঘটনার সমাধান খুঁজতে নতুন এই অভিযান শুরু হচ্ছে চলতি মাসের শেষ দিকে।
মালয়েশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে সরকারের সঙ্গে “নো-ফাইন্ড, নো-ফি” (No-Find, No-Fee) ভিত্তিতে নতুন একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ওশান ইনফিনিটি। চুক্তি অনুযায়ী, বিমানটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া গেলে তবেই প্রতিষ্ঠানটি ৭ কোটি মার্কিন ডলার (৭০ মিলিয়ন ডলার) পারিশ্রমিক পাবে। অন্যথায় কোনো অর্থ প্রদান করা হবে না।
নতুন প্রযুক্তিতে আবারও সমুদ্র তল্লাশি
এখনও স্পষ্ট নয়, প্রতিষ্ঠানটির কাছে বিমানটির অবস্থান সম্পর্কে কোনো নতুন তথ্য বা প্রমাণ রয়েছে কি না। তবে ওশান ইনফিনিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অলিভার প্লাঙ্কেট গত বছর জানান, ২০১৮ সালের প্রথম অনুসন্ধানের পর থেকে তাদের প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য অনুসন্ধান এলাকা আরও সংকুচিত করা হয়েছে, যা বিমানটির অবস্থান শনাক্ত করার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।
আগের অভিযান কেন বন্ধ হয়েছিল?
চলতি বছরের শুরুতে মালয়েশিয়া সরকারের অনুমতি নিয়ে ভারত মহাসাগরের প্রায় ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করেছিল ওশান ইনফিনিটি। তবে এপ্রিল মাসে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেই অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়।
এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে একই সম্ভাব্য এলাকায় আবারও অনুসন্ধান চালানো হবে।
৫৫ দিনের বিশেষ অনুসন্ধান
পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর থেকে মোট ৫৫ দিন বিভিন্ন ধাপে অনুসন্ধান পরিচালিত হবে। যেসব এলাকায় বিমানটি থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সেসব লক্ষ্যভিত্তিক এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হবে।
এমএইচ৩৭০: আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিমান রহস্য
২০১৪ সালের ৮ মার্চ, মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ ফ্লাইট এমএইচ৩৭০।
বিমানটিতে মোট ২৩৯ জন আরোহী ছিলেন, যাদের অধিকাংশই চীনের নাগরিক।
উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিমানটি রাডার থেকে রহস্যজনকভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়। পরবর্তীতে স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিমানটি নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে দক্ষিণ দিকে ভারত মহাসাগরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দিকে চলে যায়। ধারণা করা হয়, সেখানেই এটি বিধ্বস্ত হয়।
এতদিনেও মেলেনি মূল ধ্বংসাবশেষ
বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পর ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বহুজাতিক অনুসন্ধান অভিযান পরিচালিত হয়। তবুও বিমানটির মূল ধ্বংসাবশেষ বা ব্ল্যাক বক্সের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শুধু পূর্ব আফ্রিকার উপকূল এবং ভারত মহাসাগরের কয়েকটি দ্বীপে ভেসে আসা কিছু ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যেগুলো এমএইচ৩৭০-এর অংশ বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে আজও বিমানটির মূল ধ্বংসাবশেষ কিংবা কোনো আরোহীর মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি।
নতুন অভিযানে বাড়ছে আশাবাদ
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত সামুদ্রিক রোবোটিক্স প্রযুক্তি এবং আরও নির্ভুল তথ্য বিশ্লেষণের কারণে এবারের অনুসন্ধান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সম্ভাবনাময় হতে পারে।
যদি এমএইচ৩৭০-এর মূল ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা সম্ভব হয়, তবে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই রহস্যের অবসান ঘটবে এবং নিহতদের স্বজনদের বহুদিনের অপেক্ষারও অবসান হতে পারে।
খবর রয়টার্সের।
করপোরেটনিউজ২৪,এসটি