Corporate & Business News Bangladesh
Corporate Bangladesh Corporate Bangladesh Corporate News Bangladesh Company News CEO Interview Business Leadership

শেয়ারবাজারে ৩ কোম্পানির দর অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বমুখী

সম্প্রতি দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তিনটি কোম্পানির শেয়ারদর ও লেনদেনে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) জিজ্ঞাসাবাদের জবাবে কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, শেয়ারের এই অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির পেছনে তাদের কাছে কোনো ধরনের অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই।
কোম্পানি তিনটি হলো— সোনারগাঁও টেক্সটাইলস লিমিটেড, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি এবং বারাকা পাওয়ার লিমিটেড।
অন্যদিকে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আরেক কোম্পানি নিউলাইন ক্লদিংস লিমিটেড-এর শেয়ারদরও অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় তাদের কাছেও ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল ডিএসই। তবে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সেই চিঠির কোনো জবাব দেওয়া হয়নি।

এক নজরে তিন কোম্পানির শেয়ারদরের চিত্র

বাজার পর্যালোচনায় কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে বড় ধরনের পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। নিচে তা ছক আকারে তুলে ধরা হলো:
কোম্পানির নাম আগের দর ও তারিখ সর্বশেষ দর বৃদ্ধির হার
শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি ২৯.২০ টাকা (১৩ জুলাই) ৪৪.১০ টাকা ৫১%
সোনারগাঁও টেক্সটাইলস লিমিটেড ৮২.৬০ টাকা (১৯ জুলাই) ১১৬.৮০ টাকা ৪১%
বারাকা পাওয়ার লিমিটেড ৮.১০ টাকা (২৯ জুলাই) ১০.৪০ টাকা ২৮%
বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কতা:
শেয়ারবাজারে যেকোনো কোম্পানির শেয়ারদর কোনো কারণ বা মূল্যসংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই হঠাৎ এতটা বেড়ে যাওয়া সাধারণত অস্বাভাবিক বলে গণ্য করা হয়। তাই এ ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

টেলিযোগাযোগ খাতের তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেডের লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেটের কারণে ১২ আগস্ট শেয়ারটির লেনদেন বন্ধ ছিল।

রেকর্ড ডেট শেষে ১৩ আগস্ট ২০২৬ পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন চালু হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) গ্রামীণফোনের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১০ টাকা ৫২ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১১ টাকা ২১ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ৫১ পয়সায়।

সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ২১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১১০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ ও ১০৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে গ্রামীণফোনের ইপিএস হয়েছে ২১ টাকা ৯০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৬ টাকা ৮৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ৪৯ পয়সায়।

২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ৩৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১৭০ শতাংশ চূড়ান্ত ও ১৬০ শতাংশ অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে গ্রামীণফোনের ইপিএস হয়েছে ২৬ টাকা ৮৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৪ টাকা ৪৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৭ টাকা ৯৫ পয়সায়।

২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১২৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে গ্রামীণফোনের ইপিএস হয়েছে ২৪ টাকা ৪৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২২ টাকা ২৯ পয়সায়। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৩৯ পয়সায়।

২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত গ্রামীণফোনের অনুমোদিত মূলধন ৪ হাজার কোটি, পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৩৫০ কোটি ৩০ লাখ ও রিজার্ভে রয়েছে ৩ হাজার ৫১৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৩৫ কোটি ৩ লাখ ২২। এর ৯০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬ দশমিক ৮০, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক ২৫ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

করপোরেটনিউজ২৪/এসটি
Leave A Reply

Your email address will not be published.