Corporate & Business News Bangladesh
Corporate Bangladesh Corporate Bangladesh Corporate News Bangladesh Company News CEO Interview Business Leadership

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। কৌশলগত এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশই এখন পাল্টাপাল্টি দাবি করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ট্রাম্পের দাবি বনাম ইরানের কড়া জবাব

বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের “পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” (টোটাল কন্ট্রোল) রয়েছে। এর ঠিক একদিন পর, বৃহস্পতিবার ইরানের বাসিজ আধা-সামরিক বাহিনীর নবনিযুক্ত প্রধান হোসেইন তায়েব এই দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে জানান যে, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে “ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায়” রয়েছে।

তিনি আরও যোগ করেন, ইরানকে কোণঠাসা করতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে যুদ্ধ শুরু করলেও তারা আবারও ব্যর্থ হয়েছে এবং ইরান সম্পূর্ণ নিরাপত্তার সাথে নিজেদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সামরিক কমান্ডের হুঁশিয়ারি

ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’ বৃহস্পতিবার কড়া ভাষায় জানিয়েছে, তেহরানের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে ট্রানজিট করতে পারবে না। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ চলাচলের বিষয়ে মার্কিন দাবিকে “নিছক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন” বলে আখ্যা দিয়েছে।

সংঘাতের পেছনের প্রেক্ষাপট

  • গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই মূলত এই সংকটের শুরু।

  • সংঘাত শুরু হওয়ার পর তেহরান হরমোজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

  • এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি নৌযান ও বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে এবং ঘোষণা দেয় যে, নন-ইরানি বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজের জন্য তারা নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করবে।

ভেঙে যাওয়া চুক্তি এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধের আশঙ্কা

গত জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই চুক্তি ভেস্তে যায়। ইরান যখন দাবি করে যে কিছু জাহাজ চুক্তির শর্ত অমান্য করে চলাচল করছে এবং তাদের ওপর আক্রমণ শুরু করে, তখন যুক্তরাষ্ট্রও এর জবাবে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে পুনরায় হামলা চালায়।

সর্বশেষ, বৃহস্পতিবার ইরানের শীর্ষ সামরিক-রাজনৈতিক কর্মকর্তা রসুল সানাই-রাদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চুক্তির শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরান কোনোভাবেই এই জলপথ পুনরায় খুলবে না। যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে এটি খুলতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “ভবিষ্যতে কোনো যুদ্ধ বাধলে আমরা আরও বেশি দৃঢ় ও আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করব।”

করপোরেটনিউজ২৪,এসটি

Leave A Reply

Your email address will not be published.