Corporate & Business News Bangladesh
Corporate Bangladesh Corporate Bangladesh Corporate News Bangladesh Company News CEO Interview Business Leadership

ইরানের ভয়ে গোপনে বিমান পরিবর্তন ট্রাম্পের

জুলাই মাসে তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের শেষে অদ্ভুত এক ঘটনার জন্ম দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছর কাতার প্রশাসনের উপহার দেওয়া নতুন প্রেসিডেন্সিয়াল বিমানে করে তিনি তুরস্কে গেলেও, ফেরার পথে সেই বিমানে ওঠেননি।
বরং ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ জানিয়েছিলেন যে, নতুন বিমানটি তিনি যুক্তরাজ্যের মিলডেনহল বিমানঘাঁটিতে পাঠিয়ে দিয়েছেন, যেন সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাসদস্যরা সেটি দেখতে পারেন। আর নিজে পুরোনো একটি এয়ারফোর্স ওয়ানে চড়ে মিলডেনহলে যাবেন।
তবে, এর পেছনের আসল গল্পটা ছিল আরও চাঞ্চল্যকর এবং সিনেমাটিক।

রহস্যময় সেই ফ্লাইট এবং জানালার পর্দা

আঙ্কারা থেকে ফেরার পথে সাংবাদিকদের যে বিমানে তোলা হয়েছিল, সেখানে হোয়াইট হাউসের কর্মীরা সিক্রেট সার্ভিসের নির্দেশনায় সবাইকে জানালার পর্দা বন্ধ রাখতে বলেন।
কেন এই নির্দেশ? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে ভ্রমণকারী সাংবাদিকদের মনে তখন হাজারো প্রশ্ন। কেউ কেউ ধারণা করছিলেন, হয়তো কোনো নতুন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি আড়াল করার চেষ্টা চলছে। আবার কেউ ভাবছিলেন, ইরানের কোনো গুপ্তহত্যার হুমকির কারণে এই অতিরিক্ত সতর্কতা।
তবে সত্যটা ছিল ভিন্ন। এক মাস পর জানা যায়, সাংবাদিকরা যে বিমানে ছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আদৌ সেই বিমানে ছিলেনই না!

ক্যাটারিং ট্রাকে করে পালানো!

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন ঠিকই, কিন্তু সাংবাদিকদের অগোচরে একটি ক্যাটারিং ট্রাকে (যা দিয়ে বিমানে খাবার তোলা হয়) লুকিয়ে অন্য একটি ছোট সামরিক বিমানে (এয়ারফোর্স C-32A) স্থানান্তরিত হন।
এই পুরো নাটকীয় ছদ্মবেশ বা ‘ডিকয়’ অপারেশনের মূল কারণ ছিল ইরান থেকে আসা একটি বিশ্বাসযোগ্য গুপ্তহত্যার হুমকি।

ইংল্যান্ডে নেমে চমক

ইংল্যান্ডের মিলডেনহল ঘাঁটিতে অবতরণের পর সাংবাদিকরা যখন বিমান থেকে নামেন, তখন তারা দেখতে পান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অন্য একটি দিক থেকে হেঁটে আসছেন। এই দৃশ্য তাদের কাছে অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর মনে হয়েছিল।
পরে সাংবাদিকরা যখন ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন যে কেন তাদের ফ্লাইটের সময় জানালার পর্দা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল এবং এর পেছনে নিরাপত্তার কোনো কারণ ছিল কি না।
উত্তরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মুচকি হেসে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “কিন্তু আমি গেলে, তোমরাও তো যাবে। তাই না? হয়তো ভবিষ্যতে তোমরা পেশা বদলাতে চাইবে!”
প্রেসিডেন্টদের নিরাপত্তার জন্য মাঝে মাঝেই এমন নাটকীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে ক্যাটারিং ট্রাকে করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এভাবে বিমান বদল করার ঘটনা রীতিমতো হলিউডি থ্রিলারকেও হার মানায়! খবর রয়টার্সের। 
Leave A Reply

Your email address will not be published.