USA news 24/7
Stay Ahead with the Latest in Business

রেড সি উপকূলে সৈকত পরিচালনায় নীতিমালা জারি করল সৌদি আরব

0

রেড সি উপকূলে সৈকত পরিচালনার জন্য ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক নীতিমালা জারি করেছে সৌদি আরব। উপকূলীয় পর্যটনকে বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সৌদি রেড সি অথরিটি (SRSA) এই নতুন বিধিমালা প্রকাশ করেছে, যেখানে লাইসেন্সিং, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।

সৌদি রেড সি অথরিটি জানায়, ‘বিচ অপারেটরস রিকোয়ারমেন্টস অ্যান্ড কন্ডিশনস’ নামে প্রণীত এই নীতিমালা সৈকত পরিচালনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করেছে। এতে নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অবকাঠামোগত মানসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই নিয়মকানুনের লক্ষ্য হলো উপকূলীয় পর্যটনে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন ও নিরাপত্তা মানদণ্ড নিশ্চিত করা। ভিশন ২০৩০-এর আওতায় সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলে বিনোদন ও আতিথেয়তা খাত সম্প্রসারণের পরিকল্পনার সঙ্গেও এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এর আগে উপকূলীয় পর্যটনকে অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালে সৌদি রেড সি অথরিটি ও বিনিয়োগ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ‘ইনভেস্ট ইন কোস্টাল ট্যুরিজম’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নে লাল সাগর উপকূলকে কেন্দ্রীয় ভূমিকা দেওয়া হয় এবং ১ কোটি ৯০ লাখ পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

এক বিবৃতিতে সৌদি রেড সি অথরিটি জানায়, “এই নীতিমালা সৈকত পরিচালনার লাইসেন্স প্রদানের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। এতে নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষাসংক্রান্ত শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উচ্চমানের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এই কাঠামোর উদ্দেশ্য হলো পর্যটকদের জন্য সর্বোত্তম সৈকত অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে সেবার মান, নিরাপত্তা, সৈকতের টেকসই ব্যবহার, সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষা ও সামগ্রিক আকর্ষণ বৃদ্ধি করা। সৈকত উন্নয়ন বা পরিচালনায় আগ্রহী অপারেটরদের জন্য এটি একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে।”

নতুন নিয়মে সৌদি বিল্ডিং কোড অনুসারে সৈকতের নকশা, উন্নয়ন ও নির্মাণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে স্থাপত্য ও কাঠামোগত মান বজায় রাখা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং ব্লু ফ্ল্যাগ ইকো-লেবেলসহ আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া লাইসেন্স পেতে অপারেটরদের বাণিজ্যিক নিবন্ধন, পরিবেশগত অনুমোদন, সামুদ্রিক জোনিং অনুমতি, সৈকত নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও ধারণক্ষমতা মূল্যায়নের নথি জমা দিতে হবে। সাঁতারের এলাকা অন্যান্য সামুদ্রিক কার্যক্রম থেকে আলাদা রাখতে হবে, পর্যাপ্ত উদ্ধার ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখতে হবে, প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড নিয়োজিত করতে হবে এবং স্পষ্ট সাইনবোর্ড স্থাপন করতে হবে।

পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, দূষণ প্রতিরোধ, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা এবং কোনো পরিবেশগত দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো বাধ্যতামূলক।

ঘোষণার এক মাস পর থেকে এই বিধিমালা কার্যকর হবে। বর্তমানে পরিচালিত সৈকতগুলোর জন্য নতুন প্রযুক্তিগত ও পরিবেশগত মানদণ্ডে মানিয়ে নিতে এক বছরের রূপান্তরকাল দেওয়া হবে।

ভিশন ২০৩০ অনুযায়ী, সৌদি আরব আশা করছে—লাল সাগর অঞ্চলের উপকূলীয় পর্যটন ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনে প্রায় ৮৫ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল (প্রায় ২২.৬ বিলিয়ন ডলার) অবদান রাখবে, ২ লাখ ১০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং বিনোদন ও অবকাশ যাপনের খাতে উল্লেখযোগ্য বাজার দখল করবে।

করপোরেট নিউজ২৪/এইচএইচ

Leave A Reply

Your email address will not be published.

google-site-verification=1ANNK1RMHaj1Iw7yR8eRAr3R5K-aLbxTqN87o-pnte8 google-site-verification: google05340dd170c353ef.html