EMail: corporatenews100@gmail.com
গুলশানের শান্ত কূটনৈতিক এলাকার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা ‘ফিরোজা’ যেন আজ নিঃশব্দ শোকগাথায় ঢেকে গেছে। বাড়ির সবকিছু আগের মতোই—চেনা বাগান, প্রহরীদের কক্ষ, পরিচিত আসবাব—কিন্তু নেই বাড়ির প্রাণ, বেগম খালেদা জিয়া।
ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের যে বাড়িতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দায়িত্ব পালন করতেন, স্বামীর মৃত্যুর পর সেটিই ছিল খালেদা জিয়ার প্রথম ও প্রধান ঠিকানা। এক-এগারোর পর ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনার সরকার তাকে সেই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করলে গুলশানের ‘ফিরোজা’ই হয়ে ওঠে তাঁর স্থায়ী নিবাস। এখান থেকেই ২০১৮ সালে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে সরাসরি কারাগারে পাঠানো হয়েছিল তাকে। করোনা মহামারির সময় বিশেষ শর্তে মুক্তি পেয়ে ফের এই বাড়িতেই ফিরে আসেন তিনি।
আজও ফিরোজার গেটে প্রহরীরা দায়িত্ব পালন করছেন, তবে সবার চোখে দেখা যায় গভীর শোকের ছাপ। তাদের একজন কেঁদে ফেলতে ফেলতে বলেন,
“ম্যাডাম প্রতিদিনই আমাদের খোঁজ নিতেন। খেয়েছি কিনা পর্যন্ত জানতে চাইতেন। আজ বাড়িটা ফাঁকা লাগে… যেন প্রাণটাই নেই।”
বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন,
“এই বাড়ির প্রতিটি কোণ বেগম জিয়ার স্মৃতিতে ভরপুর। যারা চার দশকেরও বেশি সময় তাঁর পাশে ছিলেন, তারা আজ নিজেদের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না। এখনো মনে হয় ম্যাডাম এই বাড়ির কোথাও হেঁটে বেড়াচ্ছেন।”
চেয়ারপারসনের সিএসএফের একজন সদস্য বলেন,
“দিনের পর দিন তাঁর নিরাপত্তায় ছিলাম। আজ বাড়ির ভেতরে পা রাখতেই অদ্ভুত শূন্যতা লাগে। শুধু দোয়া করি, আল্লাহ তাঁকে শান্তি দান করুন।”
ফিরোজার পাশের ১৯৬ নম্বর বাড়িটি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল। সম্প্রতি সেই বাড়ির দলিল খালেদা জিয়ার হাতে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মায়ের মৃত্যুর পর তিনি সারাদিন ইবাদত, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতে সময় কাটাচ্ছেন। আত্মীয়-পরিজনরা এসে তাঁকে সান্ত্বনা দিলে তিনি মায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
কূটনৈতিক এলাকা হওয়ায় জনসমাগম নিয়ন্ত্রিত থাকলেও স্থানীয় বহু বাসিন্দা ফিরোজার সামনে এসে নীরবে শ্রদ্ধা জানাতে দেখা গেছে।
গুলশানের বাসিন্দা হাসানুজ্জামান বলেন,
“ম্যাডাম নেই, এখন আমাদের আশা তারেক রহমানকে ঘিরে। তাঁর শোকে শামিল হতে এসেছি। এই শোক শুধু একটি পরিবারের নয়—এটা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষের শোক।”
এদিকে, গুলশানের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেখানে কালো পতাকা টানানো হয়েছে, জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং রাখা হয়েছে শোক বই। আজ শোক বইতে স্বাক্ষর করেছেন বিদেশি কূটনীতিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমিয়েছে নেতা-কর্মী ও সাংবাদিকরা। নেতাকর্মীদের মতে,
“চেয়ারপার্সনের বিদায় আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তবে তাঁর জনপ্রিয়তার ইতিহাস কেউ কখনো ছাপিয়ে যেতে পারবে না।”
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ভোরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার জানাজা শেষে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জিয়া উদ্যানে শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়। BSS
করপোরেটনিউজ২৪/ এইচএইচ