EMail: corporatenews100@gmail.com
এনইআইআরের পূর্ণ প্রয়োগে জোর দিচ্ছেন দেশি মোবাইল নির্মাতারা
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার—সংক্ষেপে এনইআইআর—চলতি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে বিটিআরসি। এর মাধ্যমে অবৈধভাবে আমদানি হওয়া নতুন মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে সংযোগ পাওয়ার আগেই শনাক্ত হয়ে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ করছেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি)।
সংগঠনটির দাবি—এনইআইআর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং এ ব্যবস্থা চালু থাকলে অবৈধ ও নকল মোবাইল নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে এবং বাজার শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। তাই এনইআইআরের পূর্ণ বাস্তবায়ন চান নির্মাতারা।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এমআইওবির নির্বাহী সদস্য ও শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী। তিনি জানান, দেশের মোবাইল বাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পণ্য অবৈধভাবে দেশে ঢোকে। এতে প্রতিবছর সরকারের বড় অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি হয়।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ এখন স্মার্টফোন উৎপাদনে দ্রুত এগোচ্ছে। স্থানীয়ভাবে অ্যাসেম্বলি, ব্যাটারি ও চার্জার তৈরির পর আমরা এখন খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরিতেও মনোযোগ দিচ্ছি। ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারেও পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য রয়েছে।”
এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ এনইআইআরসংক্রান্ত গুজবের বিরোধিতা করে বলেন,
“এনইআইআর কোনোভাবেই ফোনকল শোনার বা অবস্থান নজরদারি করার প্রযুক্তি নয়। মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশে চলে যাবে—এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।”
তার মতে, ভুল তথ্য ছড়ানোর কারণেই সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা ভয় তৈরি হয়েছে।
এমআইওবির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও স্মার্ট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন,
“আমরা চাই গ্রাহক আরও কম দামে ভালো মানের স্মার্টফোন পাক। দেশেই ফোন উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে এটি সম্ভব। এনইআইআর বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব বাড়বে এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বুনিয়াদ আরও শক্ত হবে।”
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৮টি স্মার্টফোন নির্মাতা কারখানায় দেশি-বিদেশি মিলে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে। সরাসরি প্রায় ৫০ হাজার দক্ষ কর্মী এই খাতে কাজ করছেন, আর ডিলার, সার্ভিস ও খুচরা বিক্রিসহ আরও ৫০ হাজারের মতো মানুষ পরোক্ষভাবে যুক্ত—যাদের প্রায় ৩০ শতাংশই নারী।
করপোরেটনিউজ২৪/ এইচএইচ