EMail: corporatenews100@gmail.com
বাংলাদেশের জন্য বৈশ্বিক বাণিজ্যে একটি আশার বাতাস দেখা দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) কমানোর ঘোষণা দিতে পারে।
এ তথ্য তিনি মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি-তে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান। সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF)-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং অর্জনের বিষয়টি প্রকাশ করা।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বিষয়ে পরিস্থিতি
লুৎফে সিদ্দিকী জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক কমানোর বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে এবং আগামী সপ্তাহে এ সংক্রান্ত ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “বিদ্যমান ২০ শতাংশ শুল্ক কতটা কমানো হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ওয়াশিংটনের অশুল্কনীতি অনেক দিক থেকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
বাণিজ্য ঘাটতি ও ইতিবাচক ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল। লুৎফে সিদ্দিকী উল্লেখ করেন, এটি অনেকটা কমে এসেছে। এই প্রগতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর থেকে বাণিজ্য বাধা কমানোর বিষয়ে আন্তরিকতা দেখাচ্ছে।
তিনি বলেন, “আশা করা যাচ্ছে, দ্রুতই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে। এটি বাংলাদেশের রপ্তানি ব্যবসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা
দূত আরও জানান, বাংলাদেশ ইইউর সঙ্গে এফটিএ (ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষরের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রক্রিয়া ধীরে এগোচ্ছে, তাতে ভয়ের কিছু নেই। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তী সরকারের জন্য বিস্তারিত নোট রেখে আসা হচ্ছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
-
শুল্ক কমানোর মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্যের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে
-
রপ্তানিকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আরও লাভজনকভাবে প্রবেশ করতে পারবে
-
বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শুল্ক কমানোর সম্ভাবনা বাংলাদেশের রপ্তানিকারীদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক সংবাদ। এতে রপ্তানি বৃদ্ধি, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় হবে।
করপোরেট নিউজ/ এইচএইচ