EMail: corporatenews100@gmail.com
সোনার ভরি তিন লাখের দ্বারপ্রান্তে
তিন দিনে দাম লাফিয়ে ২৮ হাজার টাকা, আতঙ্কে ক্রেতা–ব্যবসায়ী
বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে যেন আগুন লেগেছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ভরিতে সোনার দাম বেড়েছে প্রায় ২৯ হাজার টাকা, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। সর্বশেষ সমন্বয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের এক ভরি এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়—দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, ডলার সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ায় দাম অস্বাভাবিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে বাংলাদেশের বাজারেও। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার কথা বলে দেশের জুয়েলার্সরা একের পর এক দাম বাড়াচ্ছেন।
শুধু স্বর্ণের দামেই থেমে নেই খরচ। একটি অলংকার বানাতে ভ্যাট ও মজুরি যোগ হলে ভরিপ্রতি অতিরিক্ত প্রায় ১১ শতাংশ অর্থ গুনতে হচ্ছে ক্রেতাকে। ফলে একটি ভরির অলংকার কিনতে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩ লাখ ১৭ হাজার টাকার কাছাকাছি।
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন জুয়েলারি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি কম থাকলেও সাম্প্রতিক হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির কারণে বড় বড় শোরুমে ক্রেতার উপস্থিতি বেড়েছে। অনেকেই ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়তে পারে—এই আশঙ্কায় বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ কিনছেন।
তবে দামের এই অস্থিরতায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও। বেশ কয়েকটি দোকানে নতুন অলংকার তৈরির অর্ডার নেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রস্তুত অলংকার বিক্রির দিকেই ঝুঁকছেন বিক্রেতারা। তাদের ভাষ্য, প্রতিদিন দাম বদলালে অর্ডার অনুযায়ী কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্বর্ণের দাম মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার অনেক বাইরে চলে গেছে। ফলে নিয়মিত ক্রেতারা সরে যাচ্ছেন বাজার থেকে। দাম আরও বাড়লে ছোট ও মাঝারি অনেক দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা। পাশাপাশি এত দামী স্বর্ণ মজুদ রাখতে গিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা না কমলে দেশের স্বর্ণবাজারেও দাম কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে বিয়ের মৌসুম ও উৎসব সামনে রেখে সাধারণ মানুষের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
corporatenews24/Ac