EMail: corporatenews100@gmail.com
খুলনা মহানগরীর ময়লাপোতা মোড়ে অবস্থিত খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ২ ঘণ্টা ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। তবে আগুনের ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালের বেজমেন্ট এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেন।
১২টি ইউনিটের সম্মিলিত অভিযান
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। প্রথমে খুলনা সদর ফায়ার স্টেশনের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আরও সাতটি ইউনিট যোগ করা হয়।
মোট ১২টি ইউনিটের নিরলস প্রচেষ্টায় রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, খুলনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. মাসুদ সরদার জানান, আগুনের উৎপত্তি হাসপাতালের বেজমেন্ট থেকে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানানো হবে।
ধোঁয়ায় আতঙ্ক, রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হয়
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের নিচতলার জেনারেটর রুম থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। পরে দ্রুত পুরো ভবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থলে আগুনের চেয়ে ধোঁয়ার পরিমাণ বেশি ছিল। ফলে হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় অবস্থানরত রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেকেই জানালার কাচ ভেঙে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করেন।
ফায়ার সার্ভিসের মই ও ক্রেন ব্যবহার করে বহু রোগী ও স্বজনকে নিরাপদে নিচে নামানো হয়। হাসপাতালটি ১৬ তলা বিশিষ্ট হলেও উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত ক্রেন সর্বোচ্চ ১৪ তলা পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।
অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর
অগ্নিকাণ্ডের পর বেশ কয়েকজন রোগীকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে অনেককে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
রাত পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সাবস্টেশন থেকে আগুনের সূত্রপাতের আশঙ্কা
হাসপাতালের পরিচালক ডা. রফিকুল হক বাবলু জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী সরিয়ে নেওয়ার কাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে ছিল পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয়রা
আগুন নিয়ন্ত্রণ ও রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
বিজিবির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে তাদের সদস্যরা সহায়তা প্রদান করেছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খুলনার জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
প্রশাসন জানিয়েছে, আগুনের কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে।
কর্পোরেটনিউজ24/এসটি, জিএনএস