EMail: corporatenews100@gmail.com
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ নোবিটেক্স (Nobitex)-এর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ২ জুন এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের ডিজিটাল সম্পদ খাতের ওপর এটি বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন ট্রেজারির অভিযোগ, নোবিটেক্স ইরানে প্রবাহিত ডিজিটাল সম্পদের একটি বড় অংশ পরিচালনা করেছে এবং বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি করেছে। সংস্থাটির দাবি, ২০২৫ সালে ইরানে আসা মোট ডিজিটাল সম্পদের ৫০ শতাংশেরও বেশি নোবিটেক্সের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়েছে।
নোবিটেক্স কত বড়?
ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান TRM Labs-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নোবিটেক্স প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ লেনদেন পরিচালনা করেছে। অন্যদিকে, ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ইরানের মোট ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারের আকার ছিল প্রায় ৭.৮ বিলিয়ন ডলার।
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, ইরানের ডিজিটাল অর্থনীতিতে নোবিটেক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে আছে।
কেন নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র?
মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, নোবিটেক্স এমন কিছু আর্থিক লেনদেন সহজ করেছে যা ইরানের সরকারি কার্যক্রম, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ স্থানান্তর এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। ওয়াশিংটনের মতে, ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মগুলো কখনও কখনও এসব নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যুদ্ধের প্রভাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরানে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একদিকে সরকারি ও ব্যবসায়িক পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কমানোর চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ নাগরিকরাও তাদের সম্পদের মূল্য সংরক্ষণের জন্য ডিজিটাল সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন।
ফলে ক্রিপ্টোকারেন্সি ইরানের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প আর্থিক মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
ইরানের ক্রিপ্টো বাজারের ভবিষ্যৎ
নোবিটেক্সের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইরানের ক্রিপ্টো শিল্পের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক লেনদেন, ব্যবহারকারীদের প্রবেশাধিকার এবং বৈদেশিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানে ক্রিপ্টোকারেন্সির চাহিদা পুরোপুরি কমে যাবে না। বরং অর্থনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়তে পারে।
নোবিটেক্সের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শুধু একটি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের ওপর পদক্ষেপ নয়; এটি ইরানের ডিজিটাল অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বেরও প্রতিফলন। আগামী মাসগুলোতে এই সিদ্ধান্ত ইরানের ক্রিপ্টো বাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বিশ্ব অর্থনৈতিক মহল।
Source : US sanctions Iran’s largest cryptocurrency exchange Nobitex
করপোরেট নিউজ২৪/এসটি