EMail: corporatenews100@gmail.com
দীর্ঘদিনের মন্দাভাব কাটিয়ে আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। সাম্প্রতিক কয়েকটি লেনদেন সেশনের ধারাবাহিকতায় এবার নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। প্রায় ৯ মাস পর বাজারে একদিনে লেনদেনের পরিমাণ ১ হাজার ২৭৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ঈদ-পরবর্তী সময় থেকে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতভিত্তিক শেয়ারে আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে লেনদেনের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন
বুধবারের লেনদেন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিএসইতে মোট ১ হাজার ২৭৯ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর এটিই সবচেয়ে বড় লেনদেন।
গত কয়েক মাস ধরে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ওঠানামা করলেও হাজার কোটি টাকার ঘর নিয়মিতভাবে অতিক্রম করতে পারছিল না। তবে ঈদের ছুটির পর বাজারে নতুন গতি দেখা যায়। সপ্তাহের শুরু থেকেই লেনদেন ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত তা ১ হাজার ২০০ কোটির সীমা অতিক্রম করে।
সূচকের বড় উত্থান
শুধু লেনদেনই নয়, বাজারের প্রধান সূচকেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
দিনশেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৪১ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একদিনে এ ধরনের উত্থান বাজারে ক্রয়চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
এছাড়া বাজারে অংশ নেওয়া অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দামও বেড়েছে, যা সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী মনোভাবের প্রতিফলন।
অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে
বুধবার মোট ৩৯০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে—
- ২৪৩টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে
- ৯৮টির দর কমেছে
- ৪৯টি কোম্পানির দর অপরিবর্তিত ছিল
এই চিত্র স্পষ্টভাবে দেখায় যে বাজারজুড়ে ক্রেতাদের উপস্থিতি বিক্রেতাদের তুলনায় বেশি ছিল।
কোন খাত ছিল লেনদেনের কেন্দ্রে?
দিনভর লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত।
বিশেষ করে—
- প্রকৌশল খাত
- বস্ত্র খাত
- ওষুধ ও রসায়ন খাত
এই খাতগুলোর বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে দেখা গেছে। সাধারণত বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হলে প্রথম সারির খাতগুলোতেই সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়।
দর বৃদ্ধিতে শীর্ষে যে কোম্পানিগুলো
দিনশেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল দেশ গার্মেন্টস। কোম্পানিটির শেয়ারদর একদিনে সর্বোচ্চ সীমা বা সার্কিট ব্রেকার স্পর্শ করে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়াও দর বৃদ্ধির তালিকায় উল্লেখযোগ্য অবস্থানে ছিল—
- Islami Commercial Insurance
- Genex Infosys
- Information Services Limited
এই কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ক্রয়চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।
যেসব শেয়ার সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে
অন্যদিকে কিছু কোম্পানির শেয়ারদরে উল্লেখযোগ্য পতনও দেখা গেছে।
দর হারানো কোম্পানিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—
- Yakin Polymer
- ICB Islamic Bank
- Daffodil Computers
বাজারে স্বাভাবিকভাবেই কিছু শেয়ারে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা দরপতনের অন্যতম কারণ হতে পারে।
সামনে কী বার্তা দিচ্ছে বাজার?
সাম্প্রতিক লেনদেন প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর বিনিয়োগকারীরা আবারও বাজারমুখী হচ্ছেন। ধারাবাহিকভাবে হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন এবং সূচকের ঊর্ধ্বমুখী গতি অব্যাহত থাকলে বাজারে নতুন আস্থার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু এক বা দুই দিনের ভালো পারফরম্যান্স দিয়ে বাজারের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান বিচার করা যাবে না। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে হলে বাজারে সুশাসন, তথ্যের স্বচ্ছতা এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকার পুঁজিবাজারে ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ঘটনা। এটি প্রমাণ করছে যে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আবারও বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, এই গতি সাময়িক উচ্ছ্বাসে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি এটি পুঁজিবাজারে একটি দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারের সূচনা হয়ে ওঠে।
শেয়ারবাজার /এসটি