EMail: corporatenews100@gmail.com
জমির শ্রেণি নির্ধারণে বিভ্রান্তি দূর করল নিবন্ধন অধিদপ্তর
জমির দলিল রেজিস্ট্রেশনে নতুন নির্দেশনা
জমির দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় জমির শ্রেণি নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে নিবন্ধন অধিদপ্তর। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) রশিদে উল্লেখিত শ্রেণি নয়, বরং সর্বশেষ প্রকাশিত খতিয়ানে উল্লেখিত জমির প্রকৃতিই চূড়ান্তভাবে বিবেচিত হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দলিল নিবন্ধনের সময় জমির মূল্য নির্ধারণে একক নীতি অনুসরণ করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জমির শ্রেণি নির্ধারণে কী পরিবর্তন এসেছে?
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, খাজনার রশিদে জমিকে ‘আবাসিক’, ‘বাণিজ্যিক’ বা ‘শিল্প’ হিসেবে উল্লেখ থাকলেও দলিল রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে সেই তথ্য গ্রহণযোগ্য হবে না। জমির প্রকৃতি নির্ধারণ করা হবে শুধুমাত্র সর্বশেষ চূড়ান্ত খতিয়ান বা খতিয়ানের সহিমুহুরী নকলের ভিত্তিতে।
অর্থাৎ, দলিল নিবন্ধনের সময় জমির প্রকৃত অবস্থা ও সরকারি রেকর্ডই হবে মূল ভিত্তি।
সাব-রেজিস্ট্রারের জন্য কী নির্দেশনা?
পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রতিটি সাব-রেজিস্ট্রারকে দলিল নিবন্ধনের আগে—
- সর্বশেষ চূড়ান্ত খতিয়ান বা তার সহিমুহুরী নকল যাচাই করতে হবে।
- ওই খতিয়ানের ভিত্তিতে জমির প্রকৃতি ও বাজারমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
- দলিলে কোনো সরকারি সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।
- দলিল লেখক ও নিবন্ধন কর্মকর্তাকেও বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
খাজনার রশিদ কেন বিবেচ্য হবে না?
নিবন্ধন অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী খাজনার রশিদে জমির ব্যবহারভিত্তিক শ্রেণি নির্ধারণ করা হয় শুধুমাত্র ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণের উদ্দেশ্যে।
অন্যদিকে, জমির দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সম্পত্তির প্রকৃতি ও মূল্য নির্ধারণ করা হয় ভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ায়। তাই খাজনার রশিদে উল্লেখিত শ্রেণিকে দলিল নিবন্ধনের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
আইনে কী বলা হয়েছে?
The Registration (Amendment) Act, ২০০৪-এর ৫২এ ধারা অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির দলিল নিবন্ধনের আগে সর্বশেষ চূড়ান্ত খতিয়ান অথবা তার সহিমুহুরী নকল যাচাই ও সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক।
এই বিধান অনুসরণ করেই নতুন নির্দেশনা আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, যাতে দেশের সব রেজিস্ট্রি অফিসে একই নিয়ম কার্যকর থাকে।
কেন এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ?
দীর্ঘদিন ধরে খাজনার রশিদ ও খতিয়ানে জমির শ্রেণি ভিন্ন থাকায় অনেক ক্ষেত্রে দলিল নিবন্ধন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতো। নতুন নির্দেশনার ফলে—
- জমির শ্রেণি নির্ধারণে একক মানদণ্ড অনুসরণ হবে।
- দলিল নিবন্ধনের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে।
- জমির মূল্য নির্ধারণে অস্পষ্টতা কমবে।
- ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই আইনি জটিলতা থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাবেন।
নিবন্ধন অধিদপ্তরের এই স্পষ্ট নির্দেশনার ফলে জমির দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় কোন নথি অনুসরণ করতে হবে, তা নিয়ে আর বিভ্রান্তির সুযোগ থাকবে না। এখন থেকে দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সর্বশেষ প্রকাশিত খতিয়ানই জমির প্রকৃতি ও মূল্য নির্ধারণের প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।
করপোরেটনিউজ২৪/এসটি