EMail: corporatenews100@gmail.com
ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের (এসএমই) আপত্তির পর প্রস্তাবিত প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থা কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে আপাতত আগের ভ্যাট কাঠামোই বহাল থাকছে। এর ফলে ছোট ব্যবসায়ীরা স্বস্তি পেলেও ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আগের মতোই বহাল থাকবে।
কেন প্যাকেজ ভ্যাট চালু করা হচ্ছিল?
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার এলাকা, বাজার ও ব্যবসার ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট অঙ্কের প্যাকেজ ভ্যাট চালুর পরিকল্পনা করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ভ্যাট পরিশোধ সহজ করা এবং হিসাবপত্র সংরক্ষণের ঝামেলা কমানো।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যবসায়ীদের নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হতো না এবং সহজ পদ্ধতিতে নির্ধারিত অঙ্কের ভ্যাট পরিশোধের সুযোগ থাকত।
কেন সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো সরকার?
বাজেট ঘোষণার পর থেকেই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকান মালিক এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন প্যাকেজ ভ্যাটের বিরোধিতা করে। তাদের অভিযোগ ছিল—
- ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।
- ভ্যাট আদায়ে হয়রানির আশঙ্কা বাড়বে।
- এসএমই খাতের ব্যবসা পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
এই আপত্তির পর সরকার প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনা করে এবং প্যাকেজ ভ্যাট বাস্তবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বর্তমানে ভ্যাটের নিয়ম কী থাকছে?
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী—
- বার্ষিক ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হলে কোনো ভ্যাট দিতে হবে না।
- ৩০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক টার্নওভারে ৪ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্স প্রযোজ্য।
- ৫০ লাখ টাকার বেশি টার্নওভার হলে সাধারণ ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় এসে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।
অর্থাৎ, ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বিদ্যমান সুবিধা আপাতত অপরিবর্তিত থাকছে।
বিআইএন নম্বর কি বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ। প্যাকেজ ভ্যাট না এলেও ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) নেওয়ার বাধ্যবাধকতা বহাল থাকবে।
বিআইএন প্রয়োজন হবে—
- ব্যাংকে চলতি হিসাব খুলতে
- আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ নিতে
- ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে
- মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (বিকাশ, নগদসহ) মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট চালু করতে
- ব্যবসায়িক সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ বা নবায়নে
- প্রতিষ্ঠানের নামে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ নিতে
- প্রতিষ্ঠানের নামে যানবাহন নিবন্ধন করতে
কোন খাতগুলো প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় আসার কথা ছিল?
সরকার মোট ১৬টি ব্যবসা খাতকে প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছিল। এর মধ্যে ছিল—
- মুদি দোকান
- কাপড় ও পোশাকের দোকান
- কনফেকশনারি
- প্রসাধনী বিক্রেতা
- জুতার দোকান
- হার্ডওয়্যার ব্যবসা
- ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রেতা
- স্যানিটারি ও টাইলসের দোকান
- রড ও সিমেন্ট ব্যবসা
- আসবাবপত্র বিক্রেতা
- মিষ্টির দোকান ও রেস্তোরাঁসহ আরও কয়েকটি খাত।
তবে আপাতত এসব খাতে নতুন প্যাকেজ ভ্যাট চালু হচ্ছে না।
প্যাকেজ ভ্যাটের ইতিহাস
বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের প্যাকেজ ভ্যাট চালু করা হয়েছিল। পরে ২০১২ সালে নতুন ভ্যাট আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ২০১৭ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আনুষ্ঠানিকভাবে প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থা বাতিল করে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সেই ধরনের একটি ব্যবস্থা নতুনভাবে চালুর প্রস্তাব দেওয়া হলেও ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে সরকার তা থেকে সরে এসেছে।
সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আপাতত আগের ভ্যাট সুবিধাই পাচ্ছেন। তবে ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিআইএন নম্বর বাধ্যতামূলক থাকায় উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় নিবন্ধন সম্পন্ন রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতে ভ্যাট ব্যবস্থায় আরও পরিবর্তন এলে সরকার পৃথকভাবে তা জানাবে।
করপোরেটনিউজ২৪, এসটি