EMail: corporatenews100@gmail.com
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অবস্থিত ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক এখন দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে শুধু ভ্রমণের স্থানই নয়, বরং বিরল প্রাণী সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। এই পার্কেই গড়ে উঠেছে পাহাড়ি গয়ালের একটি সফল প্রজনন কেন্দ্র। বর্তমানে এখানে বাচ্চাসহ মোট ২২টি গয়াল বসবাস করছে, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
পার্ক সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯–২০০০ অর্থবছরে সাফারি পার্কটি প্রতিষ্ঠিত হলেও শুরুর দিকে এখানে গয়াল রাখা হয়নি। দীর্ঘ সময় পর, ২০১১ সালের দিকে বান্দরবান জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যানের উদ্যোগে দুটি পুরুষ গয়াল পার্কে উপহার হিসেবে আনা হয়। পরবর্তীতে আরও দুটি স্ত্রী গয়াল যুক্ত হলে এখানেই শুরু হয় বিপন্ন এই প্রাণীর প্রজনন কার্যক্রম।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. মনজুরুল আলম জানান, শুরুতে আনা মাত্র দুই জোড়া গয়াল থেকেই আজ বড় একটি পরিবার গড়ে উঠেছে। পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশ গয়ালের জন্য উপযোগী হওয়ায় প্রতি বছরই তাদের সংখ্যা বাড়ছে, যা দেশীয় প্রজাতির সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পাহাড়ি গয়াল মূলত গরু গোত্রের প্রাণী। চট্টগ্রাম অঞ্চলে অনেকেই একে ‘বাইসন’ বা ‘বনগরু’ নামে চেনে। গরুর মতোই গয়ালের মাংসের চাহিদা থাকায় অতীতে নির্বিচারে শিকার হয়েছে এই প্রাণী, যার ফলে দেশে গয়াল প্রায় বিলুপ্তির মুখে পড়ে। তবে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের বনঘেরা পরিবেশে নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ায় তারা আবার বংশ বিস্তার করতে পারছে।
বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, গয়াল তৃণভোজী এবং সাধারণত দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। এরা গহীন বনাঞ্চলে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, বিশেষ করে যেখানে ঝোপঝাড় ও গাছপালা ঘন। অনেক সময় হাতির পালের কাছাকাছিও এদের দেখা যায়।
সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গয়াল বছরে একবার একটি বাচ্চার জন্ম দেয় এবং সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। পার্কের ভেতরে প্রাকৃতিক ঘাস, ফলমূলের পাশাপাশি সকাল ও বিকেলে বিভিন্ন ধরনের সবজি সরবরাহ করা হয়।
পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেঞ্জার মঞ্জুরুল আলম বলেন, সঠিক পরিচর্যা ও প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে গয়ালের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে আলাদা বেষ্টনী না থাকলেও জেব্রার জন্য নির্ধারিত এলাকায় তারা অবাধে চলাফেরা করছে। নিয়মিত তদারকি ও যত্ন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এই পার্ক গয়াল সংরক্ষণ ও বংশ বিস্তারে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
করপোরেটনিউজ২৪/এইচএইচ