EMail: corporatenews100@gmail.com
উত্তরাঞ্চলের কৃষিপ্রধান জেলা বগুড়া দীর্ঘদিন ধরেই সবজি উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এবার সেই পরিচিতি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাত্রা। ফুলকপি, বাঁধাকপি ও কাঁচামরিচের পর প্রথমবারের মতো বগুড়ায় উৎপাদিত আলু রফতানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। এতে করে স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার।
চলতি মৌসুমে প্রায় ১০ হাজার টন আলু রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন স্থানীয় রফতানিকারকরা। সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ছাড়াও সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও নেপালের বাজারে যাচ্ছে এসব আলু ও অন্যান্য সবজি। বিশেষ এজেন্টের মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা পণ্য প্রথমে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো হয়, এরপর সেখান থেকে জাহাজে করে পৌঁছে দেওয়া হয় গন্তব্য দেশে।
বগুড়াকে অনেকেই উত্তরাঞ্চলের ‘সবজির ভাণ্ডার’ বলে থাকেন। অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর জমির কারণে এখানে সারা বছর সবজি উৎপাদন সম্ভব হয়। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শীত মৌসুমে জেলায় প্রায় ২৮ ধরনের এবং গ্রীষ্মে প্রায় ২০ ধরনের সবজি চাষ করা হয়। এর মধ্যে আলু অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। শাজাহানপুর, শিবগঞ্জ, শেরপুর, কাহালু ও গাবতলী উপজেলায় ব্যাপক আকারে আলু উৎপাদন হয়ে থাকে।
গত মৌসুমে বগুড়ায় প্রায় ১৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ করে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টন। চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে তিন লাখ টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হলেও সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বাস্তবে উৎপাদন এর চেয়েও বেশি হতে পারে।
বিশেষ করে শিবগঞ্জ উপজেলা এখন রফতানিমুখী সবজি উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আগে এখান থেকে ফুলকপি ও বাঁধাকপি পাঠানো হলেও এবার যুক্ত হয়েছে আলু। কয়েকটি মোকাম থেকে এসব সবজি সরাসরি চট্টগ্রাম হয়ে বিদেশে যাচ্ছে।
স্থানীয় রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি মেসার্স সাগর ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানটির মালিক সাগর হোসেন জানান, তারা কৃষকদের কাছ থেকে ভালো মানের সবজি সংগ্রহ করে গ্রেডিং ও বিশেষ প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে রফতানির উপযোগী করে তোলেন। প্রতিটি প্যাকেট নির্দিষ্ট ওজন ও মান বজায় রেখে কাভার্ড ভ্যানে করে বন্দরে পাঠানো হয়। দেশীয় এজেন্টদের মাধ্যমে বর্তমানে সাতটি দেশে এসব পণ্য রফতানি হচ্ছে।
রফতানিকারকদের তথ্যমতে, এ মৌসুমে শুধু আলুরই চাহিদা এসেছে প্রায় ১০ হাজার টনের বেশি। পাশাপাশি ফুলকপি, বাঁধাকপি, কাঁচামরিচ ও টমেটোরও উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে।
এর সুফল পাচ্ছেন কৃষকরাও। রফতানির কারণে আলুর ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে নতুন আলু প্রতি মণ ১১০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের আশা, রফতানি নিয়মিত হলে দাম আরও স্থিতিশীল থাকবে।
শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, রফতানিযোগ্য মানের আলু উৎপাদনে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্যাকেজিং ও মান পরীক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কর্মকর্তারা মনে করছেন, নিয়মিতভাবে সবজি ও আলু রফতানি চালু থাকলে এটি কৃষকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রফতানি কার্যক্রম টেকসইভাবে চালিয়ে যেতে পারলে বগুড়া তথা উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের রফতানি আয়ে নতুন মাত্রা যোগ হবে।
করপোরেটনিউজ২৪/ এইচএইচ