EMail: corporatenews100@gmail.com
করপোরেট নিউজ: তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ তৃপ্তি ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ৪০ শতাংশ শেয়ারে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রস্তাবিত এই প্রতিষ্ঠানে উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে বিনিয়োগ করবে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিটি। পাশাপাশি ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জে জমি কেনার সিদ্ধান্তও নিয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানির প্রকাশিত এক মূল্যসংবেদনশীল তথ্যে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, তৃপ্তি ইন্ডাস্ট্রিজে মোট ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করবে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। এর বিপরীতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ২ লাখ সাধারণ শেয়ার পাবে কোম্পানিটি। তৃপ্তি ইন্ডাস্ট্রিজের অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা, যা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৫ কোটি শেয়ারে বিভক্ত। আর পরিশোধিত মূলধন ৫০ লাখ টাকা, যা ৫ লাখ সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত। এর ফলে ২ লাখ শেয়ার ধারণের মাধ্যমে তৃপ্তি ইন্ডাস্ট্রিজে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকানা দাঁড়াবে ৪০ শতাংশে।
এছাড়া ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন মাদানপুর-৬ মৌজায় ১৯ দশমিক ২৫ ডেসিমল জমি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। জমি ক্রয়ে রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত ভ্যাট ও করসহ মোট ব্যয় হবে ৫৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৮৬ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৮৩ পয়সা। একই সময়ে, অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৫৬ টাকা ১২ পয়সা।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। ওই বছরে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের ইপিএস ছিল ১০ টাকা ৬ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরে ছিল ৯ টাকা ১৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৬২ টাকা ৩৫ পয়সা।
এর আগের ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। সে বছরে ইপিএস ছিল ৯ টাকা ১৭ পয়সা, আগের বছরের ৭ টাকা ৭৮ পয়সার তুলনায় বেশি। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৫৩ টাকা ২৯ পয়সা।
এছাড়া ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল কোম্পানিটি। ওই বছরে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের ইপিএস ছিল ৭ টাকা ৭৮ পয়সা, যেখানে আগের হিসাব বছরে তা ছিল ৬ টাকা ৩ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৫০ টাকা ১২ পয়সা।
অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই রেটিং দিয়েছে ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিংস লিমিটেড (এনসিআর)।
১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১৯৯ কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির রিজার্ভের পরিমাণ ৮৬৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৯ কোটি ৯৯ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮৬টি।
এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকগণের হাতে রয়েছে ৩২ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩২ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ১৩ দশমিক ১৮ শতাংশ শেয়ার।
করপেরেটনিউজ২৪/এইচএইচ